এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্দেশনা, কবে কোন পরীক্ষা

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে নেয়া হচ্ছে নানা সতর্কতামূলক পদক্ষেপ। এর অংশ হিসেবে ফয়েল পেপারে মোড়ানো প্যাকেটে প্রশ্নপত্র পাঠানো হবে কেন্দ্রে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বৃহস্পতিবার পরীক্ষার প্রস্তুতি সভায় এ বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে বৈঠকে জানতে চাওয়া হয়েছে, আমরা বিস্তারিত জানিয়েছি। ইতোমধ্যে প্রশ্নপত্র সরকারি ট্রেজারে পাঠানো হয়েছে। ঢাকা বোর্ডের অধীনে ১৩টি জেলার মধ্যে ৮টিতে ওএমআর শিট, উত্তরপত্র ও অতিরিক্ত উত্তরপত্র পাঠানো হয়েছে, বাকি ৫ জেলায় আগামী সপ্তাহের মধ্যে পাঠানো হবে। সেসব বিষয় আজ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরীক্ষা কেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যা পরে জানানো হবে।’

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, সভায় শুরুতে এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রধানদের কাছে জানতে চাওয়া হয়। পরীক্ষা কেন্দ্রে কীভাবে কঠোর নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

তিনি আরও জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে ফয়েল পেপারে মোড়ানো প্যাকেটে কেন্দ্রে কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। কেন্দ্রের বাইরে অভিভাবকরা যেন অযথা ভিড় না করেন, সে জন্য কেন্দ্রসচিবের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সতর্ক করতে বলা হয়েছে। পরীক্ষার দিন কেন্দ্রের ২০০ গজ পর্যন্ত এলাকায় অভিভাবক ও সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে।

সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা।

চলতি বছরে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে ১৪ নভেম্বর। তা চলবে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত। করোনাভাইরাসের কারণে চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি এবং সমমানের পরীক্ষা সব বিষয়ে না নিয়ে কেবল গ্রুপভিত্তিক নৈর্বাচনিক তিন বিষয়ে নেওয়া হবে। পরীক্ষা হবে ৫০ নম্বরের। তিন ঘণ্টার পরীক্ষা হবে দেড় ঘণ্টায়। উত্তরপত্রে ১০০ নম্বরের ওপর মূল্যায়ণ করা হবে। করোনার কারণে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাকক্ষে নিজ আসনে বসতে হবে।

এবার সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে প্রথমে বহুনির্বাচনী ও পরে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার সময় এক ঘণ্টা ৩০ মিনিট। এমসিকিউ এবং সিকিউ অংশের পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না। সকাল ১০টা থেকে অনুষ্ঠেয় পরীক্ষার ক্ষেত্রে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে অলিখিত উত্তরপত্র ও বহুনির্বাচনী ওএমআর সিট বিতরণ, সকাল ১০টায় বহুনির্বাচিনী প্রশ্নপত্র বিতরণ, সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে বহুনির্বাচনী উত্তরপত্র ওএমআর শিট সংগ্রহ ও সৃজনশীল প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হবে।

দুপুর ২টা থেকে শুরু হওয়া পরীক্ষার ক্ষেত্রে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে অলিখিত উত্তরপত্র ও বহুনির্বাচনী ওএমআর সিট বিতরণ করা হবে। দুপুর ২টায় বহুনির্বাচনী প্রশ্নপত্র বিতরণ, দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে বহুনির্বাচনী (ওএমআর শিট) উত্তরপত্র সংগ্রহ ও সৃজনশীল প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হবে।

পরীক্ষাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিচার ফোন (স্মার্ট ফোন ছাড়া) ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া পরীক্ষার হলে অন্য কেউ ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না।

কবে কোন পরীক্ষা

১৪ নভেম্বর পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়), ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ও হিসাববিজ্ঞান এবং ১৬ নভেম্বর রসায়ন (তত্ত্বীয়), ১৮ নভেম্বর শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া (তত্ত্বীয়), ২১ নভেম্বর ভূগোল ও পরিবেশ ও ফিন্যান্স ও ব্যাকিং, ২২ নভেম্বর উচ্চতর গণিত (তত্ত্বীয়) ও জীববিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) এবং ২৩ নভেম্বর পৌরনীতি ও নাগরিকতা, অর্থনীতি ও ব্যবসায় উদ্যোগ পরীক্ষা হবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। দেড় বছর পর ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয়েছে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। এরই ধারাবাহিকতায় চলছে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার প্রস্তুতি।