ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা দেখতে তিস্তাপাড়ে পাউবোর মহাপরিচালক

নীলফামারী: নীলফামারী জেলায় তিস্তা নদীতে পানি বেড়ে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মহাপরিচালক ফজলুর রশিদ।

রোববার (২৪ অক্টোবর) সকাল থেকে তিনি বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন।

পরে ডালিয়ার পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেস্ট হাউজ অবসরের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।
এসময় তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে বন্যার ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে নিতে পেরেছেন। আমাদের চেষ্টার সঙ্গে উপযোগী পরিবেশ প্রয়োজন হয়, রিসোর্স দরকার হয়। আমাদের কাজের পরিবেশটা ফ্লাড হেলদি না। তারপরও কাজ করে প্রাথমিক এ ধাক্কাটা সামাল দিতে পেরেছেন তারা। মন্ত্রীসহ আমি ঢাকা থেকে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিয়ে দিক নির্দেশনা দিয়েছি। আজ মাঠপর্যায়ে দেখতে এসেছি। ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলো পুরনো নকসা অনুযায়ী শিগগিরই মেরামেত করা হবে।

তিস্তার ডেলটা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে বন্যায় ক্ষতির পরিমাণ কমবে দাবি করে তিনি বলেন, আট হাজার ২১০ কোটি টাকার ব্যয়ে তিস্তার মহাপরিকল্পনা করা হয়েছে। ওই টাকার মধ্যে সরকারি একটা অংশ আছে, বাকিটা প্রকল্প সাহায্য হিসেবে বন্ধুপ্রতিম দাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে পাওয়ার চেষ্টা করছি। পেলে তো ভালো, না হলে ইনশাআল্লাহ আমরা আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করব।

তিনি আরও বলেন, এরই মধ্যে এ অঞ্চলের ছোট ছোট নদী খনন করা হয়েছে। এসব নদীর পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ড্রেনেজ ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। ফলে গত বছরসহ পরপর পাঁচটি বন্যা আঘাত হানলেও এ অঞ্চলে বন্যার পানির উচ্চতা বাড়তে পারেনি।

পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এ কে এম সামছুল আলম, নকশা ও গবেষণা বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মো. এনায়েত উল্লাহ, উত্তরাঞ্চল রংপুরের প্রধান প্রকৌশলী জ্যোতি প্রসাদ ঘোষ, ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলাসহ অনেকে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, চলতি বন্যায় তিস্তা ব্যারেজের ফ্লাড বাইপাসসহ কমান্ড এলাকার ১০টি স্থানে ৯৮০ মিটার বাঁধ ধসে গেছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ ১৫ কোটি টাকা।

উজানের আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে গত বুধবার (২০ অক্টোবর) সকালে ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানির চাপে খুলে যায় ব্যারেজের ফ্লাড বাইপাস। এতে করে ওই ফ্লাড বাইপাসের ৩০০ মিটারসহ ব্যারেজের উজান ও ভাটির বিভিন্ন স্থানে বাঁধ বিধ্বস্ত হয় ৯৮০ মিটার। এর মধ্যে ব্যারেজের উজানে কালিগঞ্জ গ্রোয়েন বাঁধের ১০০ মিটার, ছোটখাতা টি-গ্রোয়েন বাঁধের ১০০ মিটার, তিস্তাবাজার স্পার বাঁধের ৫০ মিটার, ভাটিতে ভেন্ডাবাড়ী স্পার বাঁধের ৫০ মিটার, ভাবনচুন স্পার বাঁধের ৫০ মিটার, তিস্তা ডান তীর বাঁধ ৮০ মিটার, ডাউয়াবাড়ী তিস্তার ডান তীর বাঁধ ১০০ মিটার, শৌলমারী বাঁধের ৫০ মিটার, বালাপাড়া কৈমারী ১০০ মিটার রয়েছে। যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১৫ কোটি টাকা।

উত্তরাঞ্চল রংপুরের প্রধান প্রকৌশলী জ্যোতি প্রসাদ ঘোষ জানান, এবারের বন্যায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৫ কোটি টাকা ও কৃষি এবং অন্যান্য স্থাপনাসহ সর্বমোট ৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। গত বুধবারের আকস্মিক ওই বন্যা অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে।